লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
বিভাগ: ক্যাম্পাস ও রাজনীতি
সময়: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | রাত ১১:০০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ‘গেস্টরুম’ মানেই এক সময়কার সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ছিল আতঙ্কের নাম। ‘আদব-কায়দা’ শেখানোর আড়ালে সেখানে চলত পাশবিক নির্যাতন। সম্প্রতি সেই নির্যাতনের করুণ বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক আরিফ ইশতিয়াক রাহুল।
২০২২ সালের ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের রাতে নিজের সংগঠনেরই সিনিয়রদের হাতে যেভাবে তিনি ‘সিঙ্গেল গেস্টরুম’ বা একক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী।
রাহুলের ভাষ্যমতে, পহেলা বৈশাখের সকালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা (পরবর্তীতে সভাপতি) সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ছবি তোলা এবং তাকে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানোই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। হল ছাত্রলীগের তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের ‘অনুমতি’ না নিয়ে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ছবি তোলায় তিনি ইমিডিয়েট সিনিয়রদের চক্ষুশূল হন।
রাহুল লিখেছেন, পহেলা বৈশাখের আনন্দ শেষে অসুস্থ শরীরে হলে ফেরার পর তাকে ১০৮ নম্বর রুমে তলব করা হয়। সেখানে ১৫-২০ জন সিনিয়র তাকে ঘিরে ধরে।
নির্যাতনের ধরণ: প্রথমে স্ট্যাম্প দিয়ে ভয় দেখানো, তারপর চড়-থাপ্পড় ও ক্রমাগত বালিশ দিয়ে আঘাত।
অন্ধকারে হামলা: এক পর্যায়ে রুমের লাইট বন্ধ করে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে তাকে মেঝেতে ফেলে লাথি ও কিল-ঘুষি মারা হয়। এমনকি তাকে ‘হিজড়া’ বা ‘ধ্বজভঙ্গ’ বলে টিটকারিও দেওয়া হয়।
শিবির ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা: তার ফোন তল্লাশি করে কোনো প্রমাণ না পেয়েও তাকে হয়রানি করা হয়। এমনকি তার চোখের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এতদিন কেন চুপ ছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তরে রাহুল জানান, ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং হলে টিকে থাকার তাগিদেই তিনি তখন মুখ খোলেননি। তার মতে, "ঘটনা জানাজানি হলে হলের সিনিয়রদের চক্ষুশূল হতে হতো এবং ছাত্রলীগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ত।"
রাহুল বর্তমানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত। তবে তিনি নতুন করে অভিযোগ তুলেছেন এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আরিফুজ্জামান সৌরভের বিরুদ্ধে। রাহুলের দাবি, সৌরভ এখনো হলে বহাল তবিয়তে আছেন এবং গোপনে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: রাহুলের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, ছাত্রলীগের 'গেস্টরুম' সংস্কৃতি কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং তাদের নিজেদের কর্মীদের জন্যও ছিল এক মরণফাঁদ। দলীয় কোন্দল এবং আধিপত্য বিস্তারের জন্য পহেলা বৈশাখের মতো একটি সাংস্কৃতিক উৎসবকেও নির্যাতনের উছিলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
| বিষয় | বিস্তারিত |
| ঘটনার তারিখ | ১৪ এপ্রিল ২০২২ (পহেলা বৈশাখ)। |
| স্থান | ১০৮ নং রুম, স্যার এ এফ রহমান হল, ঢাবি। |
| মূল অভিযোগ | অনুমতি ছাড়া সাদ্দাম হোসেনের সাথে ছবি তোলা। |
| শারীরিক জখম | চোখের নিচে রক্ত জমাট ও কোমরে গুরুতর চোট। |
| অতিরিক্ত শাস্তি | ৭ দিনের জন্য হল থেকে বহিষ্কার। |
আরিফ ইশতিয়াক রাহুলের ফেসবুক টাইমলাইন: (মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের পোস্ট)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ: ১২৮ জন শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি (২০২৫)।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম নির্যাতনের আর্কাইভ রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |